ডাউনলোড করুন
0 / 0
986613/03/2010

হামদ ও শুকরের মধ্যে পার্থক্য

প্রশ্ন: 146025

হামদ ও শুকরের মধ্যে কি কোন পার্থক্য আছে?  

আলহামদুলিল্লাহ ও রাসুলে আল্লাহ ও তাঁর পরিবারের উপর সালাম ও প্রশংসা

হামদ (প্রশংসা) ও শুকর (কৃতজ্ঞতা) এর মধ্যে কি পার্থক্য আছে— এ নিয়ে আলেমগণ দ্বিমত করেছেন:

প্রথম অভিমত: হামদ ও শুকর একই অর্থবোধক; এ দুটোর মাঝে কোন পার্থক্য নাই। ইবনে জারীর আত্‌তাবারী ও অন্যান্য আলেম এ অভিমতটিকে পছন্দ করেছেন।

তাবারী  (রহঃ) বলেন: " الْحَمْدُ لِلَّهِএর অর্থ হচ্ছে— শুকরিয়া একনিষ্ঠভাবে আল্লাহ্‌র জন্য; তিনি ব্যতীত আর যা কিছুর উপাসনা করা হয় তাদের জন্য নয়…"। এরপর তিনি বলেন: "আরবদের ভাষা সম্পর্কে জ্ঞান রাখেন এমন ব্যক্তিদের মাঝে الحمد لله شكرًا কথাটির শুদ্ধতার ব্যাপারে কোন দ্বিমত নেই। যেহেতু এ কথাটি তাদের সকলের কাছে শুদ্ধ; এতে করে স্পষ্ট হয়ে গেল যে, কখনও شكر (কৃতজ্ঞতার)-এর স্থলে الحمد لله (প্রশংসা আল্লাহ্‌র জন্য) বলা হয়। আবার কখনও الحمد (প্রশংসা)-এর স্থলে الشكر (কৃতজ্ঞতা) ব্যবহার করা হয়। কারণ যদি সেটা শুদ্ধ না হত তাহলে الحمد لله شكرًا বলা বৈধ হত না।"[তাফসিরে তাবারী (১/১৩৮) থেকে সমাপ্ত]

দ্বিতীয় অভিমত: হামদ ও শুকর একই অর্থবোধক নয়। বরং এ দুটোর মাঝে পার্থক্য আছে। এ পার্থক্যগুলোর মধ্যে রয়েছে:

১। হামদ (প্রশংসা) মুখের সাথে খাস। পক্ষান্তরে শুকর (কৃতজ্ঞতা) এমন নয়। বরং শুকর মুখ, অন্তর ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মাধ্যমে হতে পারে।

২। হামদ (প্রশংসা) কোন নেয়ামত বা অনুগ্রহের বিপরীতে যেমন হতে পারে; তেমনি কোন কোন অনুগ্রহ ছাড়াও হতে পারে। পক্ষান্তরে, শুকর (কৃতজ্ঞতা) কেবল কোন অনুগ্রহের বিপরীতেই হয়ে থাকে।

ইবনে কাছির (রহঃ) ইবনে জারীর তাবারীর পূর্বোক্ত বক্তব্যকে খণ্ডন করতে গিয়ে বলেন (১/৩২): যেহেতু পরবর্তী আলেমদের অনেকের নিকট মশহুর হল: হামদ (প্রশংসা) হচ্ছে মৌখিকভাবে প্রশংসিতের আত্মগত গুণ ও পরার্থমুখী গুণের স্তুতি করা। আর শুকর (কৃতজ্ঞতা) কেবল পরার্থমুখী গুণের ক্ষেত্রে হয় এবং যা সম্পাদিত হয় মন, মুখ ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মাধ্যমে। কবি বলেন:

أفادتكم النعماءُ مني ثلاثةً … يدي ولساني والضميرَ المُحَجَّبا

(আমার পক্ষ থেকে আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছে আমার হাত, আমার মুখ ও লুক্কায়িত অন্তর।)

কিন্তু আলেমগণ এ নিয়েও দ্বিমত করেছেন যে, কোনটি অধিক আম (সার্বিক); হামদ নাকি শুকর? তবে, সূক্ষ্ম নিরীক্ষণ হল: এ দুটোর মাঝে আম (সার্বিক) ও খাস (বিশেষ)-এর সম্পর্কদ্বয় বিদ্যমান। যে যে ক্ষেত্রে শব্দদ্বয় ব্যবহৃত হয় সে দিক থেকে হামদ শুকরের চেয়ে আম। যেহেতু হামদ আত্মগত গুণ ও পরার্থমুখী গুণ উভয় ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। যেমন বলা হয়: حمدته لفروسيته (আমি তার অশ্ব চালনার প্রশংসা করলাম)। আবার বলা হয়: حمدته لكرمه (আমি তার বদান্যতার প্রশংসা করলাম)। অন্য বিবেচনা থেকে হামদ শুকর-এর চেয়ে খাস। যেহেতু হামদ কেবল কথার মাধ্যমে সম্পাদিত হয়। কিন্তু যে যে মাধ্যম দ্বারা হামদ ও শুকর সম্পাদিত হতে পারে সে বিবেচনা থেকে শুকর হামদের চেয়ে আম। যেহেতু শুকর কথা, কাজ ও নিয়তের মাধ্যমে সম্পাদিত হয়; যেমনটি পূর্বেও বলা হয়েছে। আবার যেহেতু শুকর কেবল পরার্থমুখী গুণের ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয় তাই এ দিক থেকে শুকর হামদের চেয়ে খাস। যেমন এভাবে বলা যায় না যে, شكرته لفروسيته (আমি তার অশ্বচালনার জন্য শুকরিয়া (কৃতজ্ঞতা) করলাম)। তবে, আপনি বলতে পারেন: شكرته على كرمه وإحسانه إليّ (আমার প্রতি তার বদান্যতা ও অনুগ্রহের জন্য আমি তাকে শুকরিয়া জানালাম)। পরবর্তী কোন কোন আলেম যে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন এই বক্তব্য সে সিদ্ধান্তের সারকথা।[সমাপ্ত]

এর উপর ভিত্তি করে আবু হিলাল আল-আসকারি এ দুটোর মাঝে পার্থক্য নিরূপণ করেছেন। তিনি বলেন: "হামদ ও শুকরের মধ্যে পার্থক্য: হামদ হচ্ছে মুখে ভাল কিছুর স্তুতি করা; সেটা কোন উত্তম গুণের সাথে সম্পৃক্ত হোক, যেমন- ইলম কিংবা কোন অনুগ্রহের সাথে সম্পৃক্ত হোক, যেমন- সদাচরণ।

আর শুকর: এমন কর্ম যা অনুগ্রহকারীর অনুগ্রহের প্রেক্ষিতে উৎসারিত হয়; চাই সেটা হোক মৌখিক স্তুতি, কিংবা বিশ্বাস, কিংবা অন্তরের ভালবাসা, কিংবা অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কোন কর্ম বা সেবা।

জনৈক কবি এ পার্থক্যগুলোকে তার কথায় এভাবে লিখেছেন..[এরপর তিনি পূর্বোক্ত পংক্তিটি উল্লেখ করেছেন]।

সুতরাং হামদ হচ্ছে আম (সার্বিক); যেহেতু হামদ অনুকম্পা ও অন্য বিষয়কেও অন্তর্ভুক্ত করে। আবার মাধ্যমের বিবেচনা থেকে খাস (বিশেষ)। যেহেতু তা কেবল মৌখিকভাবেই সম্পাদিত হয়। আর শুকর এর বিপরীত। যেহেতু শুকরের সংশ্লিষ্টতা কেবল অনুগ্রহের সাথে, তবে শুকরের মাধ্যম কথা ও অন্য কিছুও হতে পারে। তাই এ দুটোর মাঝে সম্পর্ক হচ্ছে এক দিক থেকে আম (সার্বিক); অন্যদিক থেকে খাস (বিশেষ)। কোন ভাল গুণের মুখ দিয়ে স্তুতি করলে সেক্ষেত্রে এ দুটোর মিলন ঘটে। আবার বিচ্ছেদ ঘটে এমন ক্ষেত্রে; যেমন কারো 'ইলম' থাকার স্তুতির ক্ষেত্রে কেবল 'হামদ' এবং কোন ভাল গুণের কারণে কাউকে ভালবাসার ক্ষেত্রে কেবল 'শুকর'-এর ব্যবহার।[আল-ফুরুক আল-লুগাওয়িয়্যাহ (২০/২২০)]

ইবনুল কাইয়্যেম (রহঃ) 'মাদারিজুস সালেকীন' গ্রন্থে (২/২৪৬) বলেন:

"শুকর; এর প্রকার ও কারণগুলো বিবেচনার দিক থেকে আম। আর যে বিষয়গুলোর সাথে সম্পৃক্ত সে বিবেচনা থেকে খাস। অন্যদিকে হামদ এর সম্পৃক্ত বিষয়গুলোর বিবেচনা থেকে আম এবং কারণগুলোর বিবেচনা থেকে খাস।

এ কথার অর্থ হচ্ছে: শুকর অন্তর দিয়ে সম্পাদিত হয়; অন্তর বিনয়ী হওয়া ও নত হওয়ার মাধ্যমে, মুখ দিয়ে সম্পাদিত হয়; মৌখিক স্তুতি ও স্বীকৃতির মাধ্যমে এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মাধ্যমে সম্পাদিত হয়; অঙ্গপ্রত্যঙ্গ অনুগত ও নত হওয়ার মাধ্যমে। আর শুকরের সাথে সম্পৃক্ত বিষয় হচ্ছে অনুগ্রহ; আত্মগত গুণাবলী নয়। তাই এভাবে বলা যায় না: شكرنا الله على حياته وسمعه وبصره وعلمه (আল্লাহ্‌র জীবন, তাঁর শ্রবণশক্তি, তাঁর দৃষ্টিশক্তি ও তাঁর জ্ঞানের কারণে আমরা তাঁর শুকরিয়া বা কৃতজ্ঞতা জানালাম)। কিন্তু তিনি তাঁর এ সকল গুণের জন্যেও হামদপ্রাপ্য বা প্রশংসিত; যেমনিভাবে তিনি তার অনুগ্রহ ও ন্যায্যতার জন্যেও হামদপ্রাপ্য বা প্রশংসিত।

আর শুকর হয় অনুগ্রহ ও দয়ার ক্ষেত্রে। তাই যা কিছুর সাথে শুকর সম্পৃক্ত ঐ সব বিষয়ের সাথে হামদও সম্পৃক্ত; কিন্তু বিপরীতটা নয়। আর যে যে মাধ্যম দিয়ে হামদ প্রকাশ করা যায় সে সে মাধ্যম দিয়ে শুকরও প্রকাশ করা যায়; কিন্তু বিপরীতটা নয়। যেহেতু শুকর অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মাধ্যমেও করা যায়; কিন্তু হামদ কেবল অন্তর ও কথা দ্বারা করা যায়।[সমাপ্ত]

আল্লাহ্‌ই সর্বজ্ঞ।

সূত্র

ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব

at email

নিউজ লেটার পেতে সাবস্ক্রাইব করুন

নিয়মিত আপডেট ও ওয়েবসাইটের নিত্য নতুন তথ্য পেতে ইমেইল দিয়ে সাবস্ক্রাইব করুন

phone

ইসলাম প্রশ্ন এবং উত্তর অ্যাপ্লিকেশন

কন্টেন্টে আরও দ্রুত অনুসরণ করুন এবং ইন্টারনেট ছাড়া ব্রাউজ করার সুযোগ

download iosdownload android
at email

নিউজ লেটার পেতে সাবস্ক্রাইব করুন

নিয়মিত আপডেট ও ওয়েবসাইটের নিত্য নতুন তথ্য পেতে ইমেইল দিয়ে সাবস্ক্রাইব করুন

phone

ইসলাম প্রশ্ন এবং উত্তর অ্যাপ্লিকেশন

কন্টেন্টে আরও দ্রুত অনুসরণ করুন এবং ইন্টারনেট ছাড়া ব্রাউজ করার সুযোগ

download iosdownload android