0 / 0
6,89520/জিলহজ/1435 , 14/অক্টোবর/2014

فَلا رَفَثَ وَلا فُسُوقَ وَلا جِدَالَ فِي الْحَجِّ এই আয়াতে কারীমার তাফসীর

প্রশ্ন: 36808

প্রশ্ন: আল্লাহ তাআলার বাণী:

الْحَجُّ أَشْهُرٌ مَعْلُومَاتٌ فَمَنْ فَرَضَ فِيهِنَّ الْحَجَّ فَلا رَفَثَ وَلا فُسُوقَ وَلا جِدَالَ فِي الْحَجِّ

(অর্থ- হজ্বের নির্দিষ্ট কয়েকটি মাস আছে। যে ব্যক্তি সেসব মাসে নিজের উপর হজ্ব অবধারিত করে নেয় সে হজ্বের সময় কোন যৌনাচার করবে না, কোন গুনাহ করবে না এবং ঝগড়া করবে না)[সূরা বাকারা (২): ১৯৭] এ আয়াতের অর্থ কী?

উত্তর

আলহামদুলিল্লাহ ও রাসুলে আল্লাহ ও তাঁর পরিবারের উপর সালাম ও প্রশংসা

সমস্তপ্রশংসাআল্লাহরজন্য।এইআয়াতেকারীমারমধ্যে আল্লাহতাআলা হজ্জেরকিছুবিধিবিধান ওআদব-আখলাকউল্লেখকরেছেন। আল্লাহতাআলা বলেন:

الْحَجُّ أَشْهُرٌ مَعْلُومَاتٌ (অর্থ-হজ্বেরনির্দিষ্টকয়েকটিমাসআছে।) এমাসগুলোহচ্ছে-শাওয়াল,জিলক্বদ ও জিলহজ্বেরদশদিন। কোনকোন আলেমেরমতে, গোটা জিলহজ্বমাস।

আল্লাহতাআলারবাণী:فَمَنْ فَرَضَ فِيهِنَّ الْحَجَّ (অর্থ-যেব্যক্তিসেসবমাসেনিজেরউপরহজ্বঅবধারিতকরেনেয়)।অর্থাৎ ইহরামবাঁধার মাধ্যমে।কারণ ইহরামবাঁধলে হজ্জসম্পন্ন করাঅবধারিত হয়েযায়। যেহেতুআল্লাহ তাআলাবলেছেন:

وَأَتِمُّوا الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَلِلَّهِ

(অর্থ-তোমরাআল্লাহর জন্যহজ্জ ও উমরাসম্পন্ন কর)[সূরাবাকারা (২): ১৯৬]

আল্লাহতাআলার বাণী: ( فَلا رَفَثَ وَلا فُسُوقَوَلا جِدَالَ فِي الْحَجِّ )(অর্থ- সেহজ্বেরসময়কোনোযৌনাচার করবেনা, কোনোগুনাহকরবেনাএবংঝগড়াকরবেনা) অর্থাৎকোন ব্যক্তিরইহরাম বাঁধারপর তার কর্তব্যহবে এ ইহরামেরমর্যাদারক্ষা করা।ইহরামবিনষ্টকারীযৌনাচার, গুনারকাজ ও ঝগড়াঝাঁটি থেকেনিজেকেহেফাযত করা।

الرفث (যৌনাচার) বলা হয়সহবাসকে এবংসহবাসপূর্ব কথা ওকাজকে। যেমন-চুম্বন, কামোদ্দীপক ও যৌনআলাপচারিতাইত্যাদি। আবার অশ্লীলও খারাপকথাকেও الرفثবলা হয়।

আর الفسوق (পাপ) বলা হয়সবধরনেরগুনার কাজকে।যেমন- পিতামাতারঅবাধ্যতা,আত্মীয়তারসম্পর্ক ছিন্ন করা, সুদখাওয়া, এতিমেরসম্পদভক্ষণ করা,গীবত করা,চোগলখোরিকরা ইত্যাদি। আবার ইহরামঅবস্থায়নিষিদ্ধকাজগুলোওফুসুক বা পাপেরঅন্তর্ভুক্ত হবে।আরএর الجدالঅর্থ হচ্ছে-ঝগড়া-বিবাদ,অন্যায়বিতর্ক। হজ্জবা উমরারইহরামঅবস্থায় কারোজন্যঅন্যায়ভাবেবিবাদ করাজায়েয নেই। তবেসত্যকেপ্রকাশ করারজন্য উত্তমপন্থায় বিতর্ককরা আল্লাহরআদেশের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহবলেন: “ডাকতোমারপ্রতিপালকেরদিকে হিকমত ওওয়াজের মাধ্যমেএবং তাদেরসাথে বিতর্ককর উত্তম পন্থায়।”[সূরা নাহল,আয়াত: ১২৫]এইবিষয়গুলো(অর্থাৎঅশ্লীল কথা,গুনার কাজ, অন্যায়ঝগড়া)যদিওসর্বাবস্থায়নিষিদ্ধকিন্তু হজ্জেরমধ্যে এগুলোরনিষিদ্ধতাআরওজোরদার হয়।কেননা হজ্জেরউদ্দেশ্যহচ্ছে- আল্লাহরপ্রতি দীনতা,হীনতা প্রকাশকরা। তাঁর আনুগত্যেরমাধ্যমেনৈকট্য হাছিলকরা, পাপ থেকেপবিত্র থাকা।এভাবে আদায়করলে হজ্জটিমাবরুর হজ্জহবে।আর মাবরুরহজ্জেরপ্রতিদানজান্নাত ছাড়াআর কিছু নয়।আমরাপ্রার্থনাকরছি আল্লাহআমাদেরকেতাঁর যিকির,শুকর ও উত্তমইবাদত করারসামর্থ্য দিন।

আল্লাহইভাল জানেন।

দেখুন:ফাতহুল বারী(৩/৩৮২),তাফসীরে সাদী(পৃষ্ঠা-১২৫),বিন বাযেরফতোয়াসমগ্র(১৭/১৪৪)।

সূত্র

ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব

at email

নিউজ লেটার পেতে সাবস্ক্রাইব করুন

নিয়মিত আপডেট ও ওয়েবসাইটের নিত্য নতুন তথ্য পেতে ইমেইল দিয়ে সাবস্ক্রাইব করুন

phone

ইসলাম প্রশ্ন এবং উত্তর অ্যাপ্লিকেশন

কন্টেন্টে আরও দ্রুত অনুসরণ করুন এবং ইন্টারনেট ছাড়া ব্রাউজ করার সুযোগ

download iosdownload android
فَلا رَفَثَ وَلا فُسُوقَ وَلا جِدَالَ فِي الْحَجِّ এই আয়াতে কারীমার তাফসীর - ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব